অবিশ্বাস্য রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ! বছরের প্রথম ডবল সুপার ওভারে শেষমেশ রবি বিষ্ণোইয়ের ভেল্কিতে জয় মিললো ভারতের

আফগানিস্তান ব্যাটিং করতে এলে বোলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় রবি বিষ্ণোইকে। প্রথম বলেই তিনি মোহাম্মদ নবিকে আউট করে দেন। তৃতীয় বলে আবার উইকেট নিয়ে ভারতকে ম্যাচ জেতান রবি।

প্রথম দুই ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে আগেই টি-২০ সিরিজ নিজেদের নাম করেছে ভারতীয় দল (India vs Afghanistan T20I Series)। তারপরেও আজ এক চিরস্মরণীয় ম্যাচের সাক্ষী থাকলো সম্পূর্ণ ক্রিকেটবিশ্ব। দুবার সুপার ওভার হওয়ার পর ম্যাচটি শেষমেষ নিজেদের নাম করলো ভারত। টি-২০ বিশ্বকাপের আগে এটতি ছিল ভারতের অন্তিম টি-২০ ম্যাচ। আর তাতেই এইরকম পরিস্থিতি থেকে জয় ছিনিয়ে নিলো রোহিতবাহিনী।

আজ টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)। প্রথমে ব্যাট করতে নামতেই পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই ৪ উইকেট পড়ে যায় ভারতীয় দলের। সবাই ব্যর্থ হলেও ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকেন রোহিত শর্মা, তার সাথ দিতে ক্রিজে আসেন রিঙ্কু সিং (Rinku Singh)। দুজনে মিলে শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে ১৯০ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ করেন। যার মধ্যে ১২১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন রোহিত, এটিই তার কেরিয়ারের পঞ্চম আন্তর্জাতিক টি-২০ সেঞ্চুরি। অন্যদিকে ৬৯ রান করে ক্রিজে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু সিং। শেষ ওভারে ৩৬ রানের সাহায্যে ২০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ২১২ রান তোলে ভারতীয় দল।

এই ২১২ রান করেও খুব একটা সুবিধাজনক জায়গায় ছিল না ভারতীয় দল। আফগানিস্তানের সামনে ২১৩ রানের লক্ষ্য থাকলেও, অতি সহজেই তারা রানের গতি এগিয় নিয়ে যান। আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ (Rahamanullah Gurbaz) ও অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান (Ibrahim Zadran) মিলে প্রথম উইকেটে ৯৩ রানের পার্টনারশিপ করেন। তারপর কুলদীপ যাদবের (Kuldeep Yadav) বলে নিজের উইকেট হারান গুরবাজ, ব্যাক্তিগত ৫০ রানে ফেরেন তিনি। তার কিছুক্ষণ পর ইব্রাহিম জাদরানও ৫০ রান করে ওয়াশিংটন সুন্দরের (Washington Sundar) শিকার হন।

তার ঠিক পরের বলেই তথা প্রথম বল খেলতে নেমেই আউট হয়ে যান আজমাতুল্লাহ ওমারজাই (Azmatullah Omarzai)। তারপরেও ম্যাচটিকে সমতালে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন গুলবদীন নাইব (Gulbadin Naib) ও মোহাম্মদ নবী (Mohammad Nabi)। দুজনেই ম্যাচটিকে প্রায় হাতের মুঠোয় করে নিয়েছিলেন, এমন সময়ে ১৬ বলে ৩৪ রান করে আউট হন নবী। তিনি আউট হয়ে গেলেও অন্যদিকে থেকে নাইব নিজের দিক থেকে পুরো চেষ্টা করে মাত্র ২৩ বলে ৫৫ রান করে ম্যাচটিকে ড্র করেন। ম্যাচটি গড়ায় সুপার ওভারের দিকে।

সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করতে আসে আফগানিস্তান। প্রথমেই ব্যাট হাতে আসেন গুলবদীন নাইব ও মোহাম্মদ নবী। বল হাতে ছিলেন মুকেশ কুমার (Mukesh Kumar) ব্যাট করতে এসেই প্রথম বলেই ১ রান পূরণ করার পর রান আউট হয়ে যান নাইব। পরবর্তী তথা দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন গুরবাজ। শেষমেষ নবী ও গুরবাজ মিলে সুপার ওভার শেষে ১৬ রান তোলেন স্কোরবোর্ডে।

ভারতকে জিততে হলে প্রয়োজন ছিল ১৭ রান। ব্যাট হাতে আসেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal)। যশস্বীর জায়গায় সবাই চাইছিলেন রিঙ্কুকে, কিন্তু সেই জায়গায় যশস্বীকে দেখে ক্ষুব্ধ হন ভক্তরা। ম্যাচটি রোহিত পরপর দুটি ছক্কা মেরে জয়ের দিকে নিয়ে গেলেও, শেষ বলে ১ রান নিয়ে ফের ড্র করেন যশস্বী। আবার শুরু হয় সুপার ওভার।

ম্যাচের দ্বিতীয় সুপার ওভারে ব্যাটিং করতে আসেন রোহিত শর্মা এবং রিঙ্কু সিং। রোহিত প্রথম দুটি বলে যথাক্রমে ছক্কা এবং চার‌ রান করেন। এরপর সিঙ্গেল নিয়ে রিঙ্কুকে স্ট্রাইক দিলে প্রথমেই আউট হয়ে ফিরে যান রিঙ্কু। তবে পরের বলেও‌ আউট হয়ে ফিরে যান‌ সঞ্জু। যার জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১২ রান।

আফগানিস্তান ব্যাটিং করতে এলে বোলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় রবি বিষ্ণোইকে। প্রথম বলেই তিনি মোহাম্মদ নবিকে আউট করে দেন। তৃতীয় বলে আবার উইকেট নিয়ে ভারতকে ম্যাচ জেতান রবি।

স্কোরকার্ড:

ভারত: ২১২/৪ (২০ ওভার)

আফগানিস্তান: ২১২/৬ (২০ ওভার)

সুপার ওভার:

আফগানিস্তান: ১৬/১ (১ ওভার)

ভারত: ১৬ (১ ওভার)

দ্বিতীয় সুপার ওভার:

ভারত – ১১/২

আফগানিস্তান – ১/২