Junior Asia Cup: পাকিস্তানকে‌ হারিয়ে এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় হকি দল

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ২-১ গোলে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো জুনিয়র এশিয়া কাপের (Junior Asia Cup 2023) শিরোপা জিতল ভারতীয় জুনিয়র পুরুষ হকি দল। আট বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই টুর্নামেন্ট দেখতে ভারত ও পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত জড়ো হয়েছিলেন। শেষ মিনিটে পাকিস্তান অনেক আক্রমণাত্মক খেলা দেখালেও, ভারতীয় গোলরক্ষক মোহিত এইচএসের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স তাদের প্রতিটি আক্রমণকে ব্যর্থ করে দেয়। ভারতের সাবেক প্রধান কোচ রোলান্ট অল্টম্যানসের কোচিংয়ে পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন বাশারত আলী (৩৭ তম মিনিট)। অঙ্গদ বীর সিং (১২ তম মিনিট), অরিজিৎ সিং হুন্ডাল (১৯ তম মিনিট) ভারতের‌ হয়ে গোল‌ দুটি করেন।

২০০৪, ২০০৮ ও ২০১৫ সালের পর এবার ফের শিরোপা জিতলো ভারত। উল্লেখ্য, ১৯৮৭, ১৯৯২ ও ১৯৯৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। এই দুই দল ইতিমধ্যেই তিনবার জুনিয়র পুরুষ হকি এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান এবং ২০০৪ সালে ভারত জিতেছিল। সর্বশেষ মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হকি টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে ৬-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত। আট বছর পর এবারের আসর অনুষ্ঠিত হয়। করোনা মহামারির কারণে ২০২১ সালে খেলা হয়নি।

ম্যাচে ভারত আক্রমণাত্মক ভাবে শুরু করে এবং প্রথম কোয়ার্টারে পাকিস্তানের বক্সে একের পর এক আক্রমণ এসে পড়ে। ১২ তম মিনিটে ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন অঙ্গদ বীর। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে বল নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে আধিপত্য রাখে ভারত। এর মধ্যে অরিজিৎ দ্বিতীয় গোল করে ভারতকে অনেকটাই এগিয়ে দেয়। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার অষ্টম গোল। প্রথমার্ধের আগে পাকিস্তানের শহীদ আবদুল একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করলেও গোলের সামনে তার শটটি রক্ষা করেন ভারতীয় গোলরক্ষক মোহিত এইচএস (Mohit HS)।

দ্বিতীয়ার্ধে পাকিস্তান দল আক্রমণাত্মক প্রত্যাবর্তন করে এবং তৃতীয় কোয়ার্টারের সপ্তম মিনিটে গোলটি আসে যখন শহীদ আব্দুল গোলের ডানদিকে দাঁড়িয়ে থাকা বাশারতের হাতে বল তুলে দেন, এবং তিনি ভারতীয় গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে গোল করেন। ৫০তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার পেলেও গোল করতে পারেনি পাকিস্তান। তারপরেও চার মিনিট পর পরপর দুটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও কোনো সাফল্য আসেনি।

টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই অপরাজিত ছিল। লিগ পর্বেও দু’জন মুখোমুখি হলেও ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ভালো গোল গড়ের ভিত্তিতে লিগ পর্বে শীর্ষে ছিল ভারত। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত তাদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ১৮-০ গোলে পরাজিত করে, এরপর জাপানকে ৩-১ এবং থাইল্যান্ডকে ১৭-০ গোলে পরাজিত করে। সেমিফাইনালে ভারত কোরিয়াকে ৯-১ গোলে পরাজিত করে। অন্যদিকে পাকিস্তান চাইনিজ তাইপেকে ১৫-১, থাইল্যান্ডকে ৯-০, জাপানকে ৩-২ এবং মালয়েশিয়াকে ৬-২ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে।