নির্বাচকের চাকরি খারিজ করেছিলেন বীরু, প্রকাশ্যে এলো কেন বড় প্লেয়াররা নির্বাচক হতে‌ চাননা

বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে (BCCI) প্রধান নির্বাচক হিসাবে রাখা রয়েছে শিব সুন্দর দাসকে (Shiv Sundar Das)। কিছুমাস আগেই একটি স্টিং অপারেশনে বিতর্কিত কিছু মন্তব্য করে নির্বাচক পদ থেকে বহিঃস্কৃত হন চেতন শর্মা (Chetan Sharma)। তাকে নির্বাচক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর কে হবেন পরবর্তী নির্বাচক এই নিয়ে কিছুটা জল্পনা চলছিল ক্রিকেট মহলে। এবার জানা গেল, কেন নির্বাচক পদে কাউকে নিযুক্ত করার সময় বড় নামগুলি দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়।

পিটিআইয়ের দাবী, যাদেরকে বিসিসিআইকে থেকে নির্বাচক পদে নিযুক্ত করা হয়। তারা কি আসলে এর যোগ্য নাকি নির্বাচক বাছাই করাটাই গুরুত্বহীন বিসিসিআইয়ের কাছে! একসময় দিলীপ বেঙ্গসরকার (Dilip Vengsarkar), মহিন্দার অমরনাথের (Mahinder Amarnath) মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারকে নির্বাচক হিসাবে দেখেছিল বিসিসিআই। তাহলে এখন কেনো বীরেন্দ্র সেহবাগ, অনিল কুম্বলে, গৌতম গম্ভীর, যুবরাজ সিং এবং হরভজন সিংয়ের মতো উত্তরাঞ্চলের কিংবদন্তী ক্রিকেটারদের নির্বাচক হিসাবে ভাবা হয় না, এই বিষয়ে অনেকের কাছেই অনেক প্রশ্ন থেকে গেছে।

এর উত্তর দিতে পিছুপা হয়নি পিটিআই। পিটিআই জানিয়েছে, তুলনামূলকভাবে কম বেতন বড় বড় ক্রিকেটারদের এই দৌড় থেকে সরিয়ে রেখেছে। প্রাক্তন ক্রিকেটাররা বিজ্ঞাপন করে, ধারাভাষ্য দিয়ে এবং অ্যাকাডেমি থেকে যা অর্থ উপার্জন করেন, তার তুলনায় অনেক কম অর্থ দেওয়া হয় নির্বাচকদের। সিনিয়র সিলেকশন প্যানেলের চেয়ারম্যানদের বেতন বছরে ১ কোটি টাকা এবং বাকি সদস্যদের বেতন হিসাবে ৯০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়। তাই ২০১৬ সালে বীরেন্দ্র সেহবাগকে (Virender Sehwag) নির্বাচক করার কথা ভাবলেও, তা কাজে হয়নি।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক বিসিসিআই কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেছেন, ‘CoA এর সময়, বীরুকে প্রধান কোচের চাকরির জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিল এবং তারপরে এই প্রস্তাব অনিল কুম্বলকে দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচক হিসেবে এটি একেবারেই অসম্ভব যে, বীরু নিজেই আবেদন করবেন এবং বেতন প্যাকেজ এমন কিছু নয়, যার জন্য এই পদমর্যাদায় আর্থিকভাবে কার্যকর হবে। কিন্তু আমরা যদি বড় নামের কথা বলি, তবে শুধুমাত্র বীরুই উত্তরাঞ্চল থেকে নির্বাচক পদের জন্য যোগ্য।’

তিনি এও বলেছেন, “এটা এমন নয় যে, বিসিসিআই চেয়ারম্যান নির্বাচকদের একজনকে কমপক্ষে ৪-৫ কোটি টাকা দিতে পারে না। এটি আসলে স্বার্থ ছাড়া আর কিছু না। অনেকগুলি সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে, যদি বড় খেলোয়াড়দের নির্বাচক কমিটিতে আসার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হয়ে থাকে।”