IPL Champion: অবিশ্বাস্য ফিনিশ! হারের মুখ থেকে CSK-কে পঞ্চম ট্রফি এনে দিল স্যার জাদেজা

আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম হলুদ রংয়ে রেঙে উঠলো। গুজরাট টাইটান্সকে (Gujarat Titans) ৫ উইকেটে হারিয়ে পঞ্চমবার আইপিএল জয়ের স্বাদ পেল ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস (Chennai Super Kings)। গতকাল ফাইনাল ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার পর ফের আজ আবার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। এই প্রথমবার রিজার্ভ ডেতে গড়ায় আইপিএল ফাইনাল। তারপরেও স্বস্তিতে সম্পূর্ণ হয়নি আজকের ম্যাচটিও।

টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় চেন্নাই। গুজরাটের হয়ে ওপেনে আসেন ঋদ্ধিমান সাহা এবং শুভমান গিল। আজ প্রথম থেকেই ভালো ছন্দে দেখা যায় গুজরাটের দুই ওপেনারকে। গিলের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। আর ফাইনালের মঞ্চে ঋদ্ধিমান সাহার ব্যাট থেকে আসে ৫৪ রানের ইনিংস। এরপর ব্যাট করতে এসে শক্তিশালি চেন্নাইয়ের বোলারদের সামনে ৯৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন সাই সুদর্শন। অন্যদিকে অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া খেলেন ২১ রানের অপরাজিত ইনিংস। যারপর ২০ ওভার শেষে ২১৪ রানের বড় লক্ষ্যে পৌঁছায় গুজরাট টাইটান্স।

চেন্নাইকে পঞ্চমবার চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে গুজরাটের সামনে ২১৫ রান করতে হতো। রোজকার মতো আজও ওপেন করতে আসেন রুতুরাজ গায়কওয়াড ও ডেভন কনওয়ে। কিন্তু এমন সময় বৃষ্টি শুরু হওয়ায় হালচালই বদলে যায় ম্যাচের। একসময় মনে হচ্ছিলো ম্যাচটি আর হবে না। কিন্তু শেষমেষ বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত মেনে ম্যাচ পুনরায় শুরু হয় রাত্রি ১২.১০ থেকে। অনেক দেরী হওয়ার কারণে ডাকওয়ার্থ লুইস সূত্র মেনে ১৫ ওভারে ১৭১ রানের লক্ষ্য দেওয়া হয় চেন্নাই সুপার কিংসের সামনে।

তার উত্তর দিতে প্রস্তুত ছিলেন চেন্নাইয়ের ওপেনাররা। প্রথম থেকেই বড় শট খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন রুতুরাজ-কনওয়ে জুটি। ৪ ওভার (পাওয়ারপ্লে) শেষে ৫২ রানে পৌঁছায় চেন্নাই। এরপর সপ্তম ওভারে নুর আহমেদের হাত ধরে আসে দুই উইকেট। দুইজন সেট ওপেনারকে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান তিনি। রুতুরাজ আউট হন ২৬ রানে এবং অন্যদিকে কনওয়ে ৪৭ রানে ফেরেন। এরফলে ম্যাচ কিছুটা হলেও গুজরাটের দিকে আসে।

তারপরই ব্যাট করতে এসে প্রথম থেকে বড় শট খেলেন অজিঙ্কা রাহানে। প্রথম থেকেই গুজরাটের বোলারদের দমিয়ে রেখেছিলেন রাহানে। কিন্তু ২৭ রানের মাথায় মোহিত শর্মার বলে নিজের উইকেট দিয়ে বসেন তিনি। এরপরেই আবার কিছুটা চাপ লক্ষ্য করা যায় চেন্নাই ভক্তদের মধ্যে। চেন্নাইকে জিততে ২০ বলে ৫০ রানের দরকার ছিল একসময়, সেই সময় শিবম দুবের পরপর দুটি ছক্কায় ম্যাচের মোড় ফের ঘুরিয়ে দেয়।

অম্বতি রায়ডুও ক্রিজে এসেই মোহিত শর্মার উপর কড়াপ্রহার করতে শুরু করেন। একমুহুর্তের মধ্যেই ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেন রায়ডু। তবে শেষরক্ষা হয়নি, সেই ওভারেই আউট হয়ে ডাগ-আউটে ফেরেন তিনি। ঠিক তারপরেই ব্যাট হাতে ক্রিজে আসতে দেখা যায় মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। তাকে দেখেই বদলে যায় মাঠের বাতাবরণ। কিন্তু প্রথম বলেই আউট হন ধোনি।

ধোনি আউট হতেই ক্রিজে আসেন রবীন্দ্র জাদেজা। অপরদিকে শক্ত করে হাল ধরে রেখেছিলেন শিবম দুবে। এমনসময়ে ফের মাঠ জুড়ে দেখা যায় চিন্তার ছাপ, চেন্নাই নাকি গুজরাট কে জিতবে এবারের খেতাব সেই নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় দর্শকরা। শেষ ওভারে চেন্নাইকে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। বল করতে আসেন মোহিত শর্মা। প্রথম চারটি বল খুব ভালো করলেও, শেষ দুই বলে ১০ রান রক্ষা করতে পারেননি মোহিত। ২ বলে ১০ রান করে চেন্নাইকে জয় এনে দেন রবীন্দ্র জাদেজা। এর সাথেই আইপিএল ২০২৩ নিজেদের নাম করে ধোনিবাহিনী। গুজরাটকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় চেন্নাই সুপার কিংস।

আইপিএল ২০২৩ ফাইনাল ম্যাচের স্কোরকার্ড:

গুজরাট টাইটান্স: ২১৫/৪ (২০ ওভার)

চেন্নাই সুপার কিংস: ১৭১/৫ (১৫ ওভার) ডিএলএস